Regd. No -S/2L/30631

Winter camp 2021-Cloth & food distribution

ছুঁয়ে আসা ছোট ছোট প্রাণ
যারা বারো মাস নিয়ে থাকে মাটির ঘ্রাণ
দুচোখে স্বপ্ন,যদি ধরা যায় আকাশ
পান্তা ভাতে দিন কেটে যায়,
স্বপ্নে বাঁচার নেই অবকাশ ….
দু’মুঠো খেতে পাওয়া যাদের লড়াই
গায়ে মেখে থাকে ধুলো, বালি, ছাই
তাদেরোতো ফুটো ছাদে শীত নেমে আসে
জ্বর জারি লেগে থাকে সপ্তাহে বারো মাসে
কিছুটা উত্তাপ যদি দিতে পারি তুলে
অহংকার রেষারেষি সবকিছু ভুলে
বিনিময় যা পাই অমূল্যের মত
গাল ভর্তি হাসি,মন ভরা ক্ষত
বেঁচে থাকার রসদ নিয়ে ঘরে ফিরে আসা
কিচ্ছু চায় না ওরা
একটা উষ্ণ হাত, আর অল্প ভালোবাসা ছাড়া …….

যখনই আমাদের গাড়িটা গিয়ে সুন্দরবন পৌঁছায়, প্রতিবারই এক ঝাঁক প্রত্যাশিত চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। যেনো প্রতীক্ষার অবসান হল। সারা বছর ধরে ওরা অপেক্ষায় থাকে, কখনো ডাক্তার, ওষুধ,কখনো নতুন জামা, কখনো খাবার,কখনো নতুন বই আবার কখনো কম্বলের জন্য। দীর্ঘ আট বছর ধরে আমাদের প্রতি এই ভরসা আমাদের দিন দিন দায়িত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিছু করার চেষ্টাটুকু করে চলেছি শুধুমাত্র।

আর এই চেষ্টার পেছনে আছে ভালো মনের কিছু মানুষ। বহু মানুষ এসেছে,আবার চলেও গেছে। আমরা না তাদের চলে যেতে বলেছি আর না তাদের আটকে রাখার তাগিদ ছিলো। যারা ঘুরতে গেছে, ছবি তুলতে গেছে, স্বার্থের জন্য গেছে তারা শূন্য ঝুলি নিয়ে সরে গেছে। কারণ সন্তানের থেকে প্রাপ্তিরতো কিছু থাকে না। সন্তান কে শুধু দু হাত উজার করে দিয়ে যেতে হয়।পরিবর্তে ঝুলিতে যা থাকে তা অমূল্য ।আট ঘন্টা যাতায়াত মিলিয়ে, আর পাঁচ ঘন্টা টানা কাজ, মোট তেরো ঘন্টা, আট বছর ধরে কতটা নিষ্ঠা ও ভালোবাসা থাকলে করা যায় সেটা যারা করে শুধু তারাই জানে। তাই যখন মানুষ শত বেধে রাখার চেষ্টা করেও দূরে সরে যায় তখন বড্ড কষ্ট হয় ।

কিছু মানুষ যেমন অনায়াসে ছেড়ে চলে গেছে,তেমন কিছু মানুষ টানা আট বছর ধরে পাশে থেকে গেছে। এই সংস্থাকে বড় করার পেছনে অনেক গল্প আছে, অনেক রক্ত ক্ষয় আছে আজ নয় সেসব কথা থাক ।

এবার আসি আসল কথায় , প্রতি বছরের মতন এবার টাও আমরা চলে গেলাম শীতের পোশাক, কম্বল নিয়ে ওদের কাছে । যতই বাঁধা ঝড়,বৃষ্টি করোনা থাকুক এ যেনো এক অলিখিত অঙ্গীকার,আবদার,দাবি যা আমাদের মেটাতে হয়। এই পরিস্থিতিতে এইবার আমরা বেশি কিছু নিয়ে যেতে পারিনি। সুন্দরবনের ঝড়খালির
তিনটি গ্রামে প্রায় ২০০টি পরিবারের হাতে তুলে দিলাম কম্বল।আমাদের সংগঠনে অন্যতম সদস্য শ্রাবণী বাগচি দি বেশিরভাগ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ।

এরপরে উপরি পাওনা ছিল আমার ছোটবেলার বন্ধু শ্বেতা,যার একমাত্র ছেলে অনিশের জন্মদিন উপলক্ষে পঞ্চাশটি বাচ্চাকে নিয়ে ফল উৎসব।যেখানে দু’বেলা পেট ভরে ভাত খাওয়া বিশাল ব্যাপার সেখানে ফল পাওয়া তাদের কাছে স্বর্গ পাওয়ার মতন।বেলঘড়িয়া টাচ পক্ষ থেকে অণিশের জন্য থাকলো একরাশ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

আমাদের কোনো স্পন্সর পেজ নেই যা আপনারা ফেসবুক স্ক্রল করলেই দেখতে পাবেন। না আমাদের ছবি বিজ্ঞাপনের প্রথম সারিতে থাকে।আর না আমরা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে ফিতে কাটাই। আর না ছবি তুলে কোনো অ্যাওয়ার্ড শো য়ে সেরা স্বেচ্ছাসেবীর সম্মান পাই। কোনটাই প্রয়োজন নেই। যেটা প্রয়োজন সেটা হোলো কিছু মানুষ যাঁরা সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়।নির্দিধায় পাশে এসে দাঁড়ায় ।

প্রতি মাসে লিস্ট আসে যেসব বাচ্চারা লেখাপড়ায় ভালো কিন্তু পড়াশুনার খরচ চালাতে পারে না তাদের বই এর। প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের হুইল চেয়ারের জন্য । ইতিমধ্যেই আমরা বহু বাচ্চাকে হুইল চেয়ার দিয়েছি। নীচে দুটি বাচ্চার ছবি দেওয়া হোলো যারা এবার এসে দরখাস্ত দিয়ে গেছে । যদি আপনারা ওদের বই,বা হুইল চেয়ার দিয়ে সাহায্য করতে চান তো জানাবেন ।🙏

“মানুষ বড় একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও,
এসে দাঁড়াও, ভেসে দাঁড়াও এবং ভালোবেসে দাঁড়াও,
মানুষ বড় কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *